Wednesday , December 12 2018
Home » Payment Gateway » ক্রেডিট কার্ড নেই ? নিয়ে নিন ইন্টারন্যাশনাল প্রি-পেইড মাস্টার কার্ড
EBL Mastercard Aqua Prepaid Card

ক্রেডিট কার্ড নেই ? নিয়ে নিন ইন্টারন্যাশনাল প্রি-পেইড মাস্টার কার্ড

ইস্টার্ণ ব্যাংকের EBL MasterCard Aqua Prepaid Card অনেকগুলো সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি একটি ইএমবি চিপ কার্ড। যাতে রয়েছে একটি প্রফেশনাল লেভেলের সিকিউরিটি , অনেক ধরনের সুবিধা এবং একটি কার্ডের মাধ্যমেই সব ধরনের কেনাকাটার সুবিধা। ইস্টার্ণ ব্যাংকের কোন একাউন্ট ছাড়াই যেকেই যেকোন সময় ইস্টার্ণ ব্যাংকের যেকোন ব্রাঞ্চ থেকে এই কার্ড নিতে পারে। দেশের যেকোন ব্রাঞ্চ থেকে টাকা ডিপোজিট করতে পারে।

অনলাইন মার্কেটার হিসেবে  কোন বিজ্ঞাপন মিডিয়া (গুগল / ফেসবুক ইত্যাদি ), মার্কেটপ্লেস বা অন্যান্য জায়গায় বিল পরিশোধের জন্য সাধারন পেপাল অথবা  ক্রেডিট কার্ড বা মাস্টার কার্ড নির্ধারণ থাকে। পেপাল আমাদের দেশে নেই। অনেকেই আমরা বিভিন্ন দেশের টা চালাই। কিন্তু সেটা ঝুকিপূর্ণ। আর ক্রেডিট কার্ড অধিকাংশ ব্যক্তিরই থাকে না। তাই বিল পরিশোধ অনেক বড় একটা ঝামেলার ব্যাপার হয়ে যায়। ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প হিসেবে EBL MasterCard Aqua Prepaid Card  ব্যবহার করতে পারেন। বিল পরিশোধের জন্য মাস্টার কার্ডের অপশন থাকলে আপনি এই কার্ড দিয়ে বিল পরিশোধ করতে পারেন। 

এই পোস্টে আপনাদের সাথে এই কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করব।  

EBL Mastercard

কার্ডের সুবিধাসমূহঃ

  • এটি ডুয়েল কারেন্সি (বাংলাদেশি টাকা এবং ইউএস ডলার) এর ইএমবি প্রিপেইড মাস্টার কার্ড।
  • এই কার্ড নিতে ব্যাংকের কোন একাউন্ট লাগবে না।
  • দেশীয় অনেক পার্টনার মার্চেন্ট থেকে ডিস্কাউন্টে কেনাকাটা করার সুবিধা।
  • লোকাল এবং ইন্টারন্যাশনাল যেকোন জায়গা থেকে শপিং করা যাবে।
  • অনলাইনে যে কোন বিল পেমেন্ট করা যাবে । (যেখানে মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে বিল দেওয়া যায়)।
  • মাস্টার কার্ডের লোগোযুক্ত বিশ্বের যে কোন দেশের যে কোন বুথ থেকে ক্যাশ আউট করা যাবে।
  • ইস্টার্ন ব্যাংকের নিজস্ব বুথ থেকে ফ্রিতে ক্যাশ আউট সুবিধা ।
  • দেশের যে কোন ব্রাঞ্চ থেকে ফ্রিতে ডিপোজিট সুবিধা ।
  • প্রতি ট্রান্জাক্শন-এ অ্যালার্ট সুবিধা ।
  • কার্ডের মেয়াদকাল ৩ বছর। এরপর শুধুমাত্র ফোনের মাধ্যমেই রিনিউ করা যাবে। 

কার্ড নেওয়ার জন্য যোগ্যতাঃ 

  • অবশ্যই বাংলাদেশি হতে হবে।
  • সর্বনিম্ন  ১৮ বছর বয়স হতে হবে।
  • ইউএস ডলার দিয়ে কেনাকাটা বা বিল পরিশোধ করতে চাইলে অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে।

কার্ড নিতে যা যা লাগবেঃ 

  • অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম – যা ব্যাংক থেকে দিয়ে দেওয়া হবে।
  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গীন ছবি
  • ফি ৫৭৫ টাকা (ফি ৫০০ টাকা এবং ভ্যাট ৭৫ টাকা)
  • আপনার পাসপোর্ট ( পাসপোর্ট শুধুমাত্র ডলার এন্ডোর্সমেন্ট এর জন্য । আপনি যেদিন ডলার এনডোর্সমেন্ট করবেন পাসপোর্ট শুধুমাত্র সেদিন লাগবে । যদি কার্ড অর্ডারের দিন আপনি ডলার এনডোর্স না করেন তাহলে পাসপোর্ট লাগবে না।)

তবে ব্যাংকের ব্রাঞ্চে ফটোকপি করার সুবিধা আছে। আপনি শুধুমাত্র এনআইডি কার্ড এবং পাসপোর্টের মূল কপি, ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙ্গীন ছবি এবং ফি বাবদ ৫৭৫ টাকা নিয়ে গেলেই হবে।

যেভাবে কার্ডের জন্য আবেদন করবেনঃ 

  • প্রথমে আপনার নিকটস্থ Eastern Bank Limited এর শাখায় যান।
  • ব্রাঞ্চে উপস্থিত যেকোন প্রতিনিধিকে জিজ্ঞেস করলেই “EBL MasterCard Aqua Prepaid Card” এর জন্য নির্ধারিত ডিপার্টমেন্ট আপনাকে দেখিয়ে দিবে।
  • কার্ড ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাকে EBL MasterCard Aqua Prepaid Card এর কথা বলুন । সেই সাথে তাকে অবহিত করেন যে, আপনি অনলাইনে পেমেন্ট দেয়ার জন্য এই কার্ডটি ব্যবহার করবেন। কারণ অনলাইনে পেমেন্টের জন্য E-commerce Enrollment Form পূরণ করে দিতে হবে। কার্ড ডিপার্টমেন্টকে জানালে তারা কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ফরমের সাথে E-commerce Enrollment Form দিয়ে দিবে । অন্যান্য ফরমের সাথে সেটা অবশ্যই পূরণ করে দিতে হবে।
  • আপনার ছবি, ন্যাশনাল আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি এবং সকল পূরণকৃত কাগজপত্র সহ ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে ৫৭৫ টাকা জমা দিন। কাউন্টার থেকে একটা পেমেন্ট রিসিভ দিবে।
  • সমস্ত কাগজপত্র এবং টাকা জমাদানের রিসিভসহ পুনরায় কার্ড ডিপার্টমেন্টে এসে জমা দিন। এরপর তারা সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে আপনাকে কার্ড দিয়ে দিবে।
  • কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড নিয়ে আসার পর সেগুলোর ভেরিফিকেশন হতে বা কার্ডটি একটিভ হতে ৫ থেকে ৭ কর্মদিবস সময় লাগে। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আপনি আপনার ফোনে সাধারনত মেসেজ পাবেন। যদি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ভেরিফিকেশন ম্যাসেজ না পান তবে ১৬২৩০ নম্বরে কাস্টোমার কেয়ারে কল করে সেটা একটিভ করতে বলুন।
  • আর ৭ কর্মদিবস পর এমনিতেই কাস্টমার কেয়ারে ( ১৬২৩০ নম্বরে) কল দিতে হবেঃ
    ক) ভেরিফিকেশন হল কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
    খ) E-commerce Enrollment Form টি ভেরিফাই হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
    গ) আপনি এখন ডলার এনডোর্সমেন্ট করতে পারবেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
  • যদি কোন সমস্যা থাকে তবে শুধুমাত্র সেটার জন্য ব্যাংকে যাওয়ার দরকার নেই। আপনি চাইলে ডলার এনডোর্সমেন্টের দিনও সেটা গিয়ে করতে পারেন।

যেভাবে ডলার এনডোর্সমেন্ট করবেনঃ 

  • বাংকের কার্ড ডিপার্টমেন্টে গিয়ে আপনার মূল পাসপোর্টটি দিন এবং ডলার এনডোর্সমেন্ট করিয়ে দিতে বলেন। ডলার এন্ডোর্সমেন্টের লিমিট - সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫,০০০ ইউএস ডলার এবং নন-সার্কে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৭,০০০ ইউএস ডলার। এই ডলার এন্ডোর্সমেন্টের লিমিট অনুযায়ী আপনি আপনার কার্ড দিয়ে খচর করতে পারবেন।
  • আপনি আপনার প্রয়োজন মত এন্ডোর্স করিয়ে নিন। আমাকে সার্কের জন্য ৪,০০০ ডলার এবং নন সার্কের জন্য ৬,০০০ ডলার দিয়েছিল। প্রাথমিক অবস্থাত যদি কম করান তবে সমস্যা নেই, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
  • ডলার এনডোর্সমেন্ট আপডেট হতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা সময় লাগবে। এর জন্য কোন প্রকার এসএমএস আসবে না। অটোমেটিকভাবেই হয়ে যাবে। আর একবার ডলার এনডোর্সমেন্ট হয়ে গেলে সাধারনত আর করতে হবে না। যদিনা লিমিট পরিবর্তন করতে চান।

যেভাবে ডিপোজিট করবেনঃ 

  • ডলার এন্ডোর্সমেন্টের প্রক্রিয়া সমপন্ন হলে ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে ডিপোজিট ফর্ম নিয়ে সেটা ফিলাপ করুন। আপনার প্রয়োজনমত টাকা  ডিপোজিট করুন।
    [ বিঃ দ্রঃ ডিপোজিট ফর্মে অবশ্যই ডলারের কথা উল্লেখ করতে হবে । ডলার উল্লেখ না করলে ডিফল্ট কারেন্সি হিসেবে বাংলাদেশী টাকা তে এই ডিপোজিট চলে যাবে । সেক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে টাকা থেকে ডলারে কনভার্ট করে নিতে হবে । যার জন্য সর্বোচ্চ ৩ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে।]
  • ডলার এন্ডোর্সমেন্টের জন্য ডিপোজিট করার পর ইনস্টান্ট কার্ডে ডলার জমা হবে। তবে প্রথমবার ইনস্ট্যান্ট হবে না কারণ এনডোর্সমেন্ট কমপ্লিট হতে কিছুটা সময় লাগে ।
  • প্রথমবার কার্ডে ডলার জমা হওয়ার পর সেটি খরচ করুন। এরপর যতবার ডলার ডিপোজিট এর প্রয়োজন পড়বে শুধুমাত্র ব্রাঞ্চে গিয়ে ডিপোজিট ফর্ম নিয়ে টাকাসহ ডলার পার্ট এর জন্য ডিপোজিট করলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার কার্ডে ডলার জমা হবে । আপনি চাইলেই তাৎক্ষণিকভাবে সেটা খরচ করতে পারবেন।

কার্ড দিয়ে উইথড্রোঃ 

কার্ড দিয়ে কোন এটিএম বুথ এর মাধ্যমে ক্যাশ আউট করতে চাইলে - কার্ডে বাংলাদেশি টাকা থাকতে হবে। যদি কার্ডে ডলার থাকে তবে ১৬২৩০ নম্বরে কল দিয়ে ডলার থেকে টাকাতে কনভার্ট করে নিতে হবে । সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ কর্মদিবস সময় লাগে।

বাংলদেশি এটিএম বুথ থেকে ক্যাশ আউটঃ
ইস্টার্ণ ব্যাংকের নিজস্ব বুথ থেকে ক্যাশ আউটঃ কোন প্রকারের চার্জ কাটবে না।
অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে ক্যাশ আউটঃ
বুথটি QCash Network এর হলেঃ      ১০ টাকা + ভ্যাট ।
বুথটি NPSB Network হলেঃ              ১৫ টাকা সর্বসাকুল্যে ।
বুথটি MasterCard Network হলেঃ   ২৫ টাকা + ভ্যাট ।


বিঃদ্রঃ বাংলাদেশের অধিকাংশ বুথ NPSB Network এর।

বিদেশী বুথ থেকে ক্যাশ আউটঃ
মাস্টার কার্ডের লোগো সম্বলিত বিশ্বের যেকোন বুথ থেকে ক্যাশ আউট হবে। সেক্ষেত্রে কার্ডে ডলার ডিপোজিট করা থাকতে হবে। যেমনঃ বাংলাদেশ থেকে ২০,০০০ টাকার সমপরিমাণ ডলার ডিপোজিট দিয়ে ইন্ডিয়ার কোন মাস্টার কার্ড লোগো সম্বলিত বুথ থেকে ক্যাশ আউট করলে ডিপোজিটকৃত ডলারের সমপরিমান রুপি বের হবে। সেই সাথে সেই দেশের যেকোন দোকান বা শো রুম থেকে এই কার্ড দিয়ে পস মেশিনে বিল পরিশোধের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে পারবেন।

কার্ড রিনিউঃ

এই কার্ডের মেয়াদকাল তিন বছর । প্রথমবার কার্ড একটিভ হওয়ার পর নির্ধারিত মেয়াদের তিন বছর চালু থাকবে। এরপর কার্ডটি অটোমেটিক ভাবে ডিঅ্যাক্টিভ হয়ে যাবে । তবে এটি একটিভ করার জন্য ব্যালেন্সে ৫৭৫ টাকা রেখে কাস্টমার কেয়ার ১৬২৩০ নাম্বারে ফোন দিলে অটোমেটিক ভাবেই তারা কার্ড একটিভ করে দিবে। সেক্ষেত্রে ব্যালান্সের ৫৭৫ টাকা চার্জ হিসেবে কেটে দিবে।
বাৎসরিক চার্জ বাবদ ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা চার্জ কাটবে প্রতি বছর। 

যেকোন প্রয়োজনে যোগাযোগঃ

কাস্টমার কেয়ার মোবাইল নাম্বারঃ ১৬২৩০
কাস্টমার কেয়ার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারঃ EBL DIA
ভাইবারঃ Viber  এ EBL DIA দিয়ে সার্চ দিন। 
ই- মেইলঃ [email protected]

কিছু প্রশ্নঃ

প্রশ্ন ১- ভুল করে ডলারের জায়গায় টাকা ডিপোজিট হলে কি করব?
উত্তরঃ কাস্টমার কেয়ারে ১৬২৩০ নম্বরে কল দিয়ে টাকাকে ডলারে কনভার্ট করে দিতে বলবেন। ঐ দিনের রেট অনুযায়ী তারা কনভার্টের জন্য রিকোয়েস্ট রেখে দিবে। পরবর্তী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ডলারে কনভার্ট হয়ে যাবে।

 
প্রশ্ন ২- ডলারের রেট কত করে?
উত্তরঃ ডলারের রেট বাংলাদেশ ব্যাংকের রেট অনুযায়ী। একেক দিন একেক রকম। কিছুদিন আগে আমার রিচার্জের রেট ছিল ১ ডলার = ৮৩.৬৫ টাকা ছিলো। EBL ডলার রেট


প্রশ্ন ৩- ডিপোজিট লিমিট কত?
উত্তরঃ একদিনে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ডিপোজিট করা যাবে। তবে ২০,০০০ টাকার উপরে ডিপোজিট করতে চাইলে ইনকাম ভ্যালিডিটি প্রুভের জন্য একটা ফর্ম পূরণ করতে হবে। 

About Maz Sujon

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *